ডেস্ক নিউজ : ভোলার বোরহানউদ্দিনে টিফিনের সময়ে বাড়িতে খেতে যাওয়ার পথে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার পর এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। এর আগে, গত ২৬ জুলাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মা মনসা গ্রামের দালাল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ওই শিক্ষার্থী চিৎকার করলে রাহাদ তার মুখ চেপে ধরে প্রথমে ধর্ষণ করে। এ সময় জিসান মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে জিহাদ, রহিম, জিসান ও ঈমন পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার কথা প্রকাশ করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়, ফলে শিশুটি এতদিন ভয়ে চুপ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতেও তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করা হয় এবং গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার অভিযুক্তরা ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভুক্তভোগী পুরো ঘটনা খুলে বলে।
এরপর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, মামলা দায়েরের পরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ১৬-১৭ বছর বয়সী তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
