কৃষি ডেস্কঃ ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। চারদিকে বিস্তীর্ণ বিলের পানি, তার ওপর সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে আছে সাদা-লাল শাপলা। নৌকা নিয়ে বিলে নেমেছেন একজন, আরেকজন পানির বুক থেকে তুলে নৌকায় জমা করছেন শাপলা। তীরে বসে কেউ সেগুলো গুছিয়ে আঁটি বাঁধছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসব শাপলা নিয়ে ছুটতে হবে গ্রামের হাটে। সেখানে অপেক্ষায় আছেন পাইকার ও সবজি ব্যবসায়ীরা। এরপর শাপলার আঁটি যাবে দূরবর্তী বাজারে, এমনকি রাজধানী ঢাকার খাবার টেবিলেও।
দূর থেকে দেখলে এটি কেবল শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রির একটি সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে আছে শত শত মানুষের ঘাম-শ্রম, পরিবারের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং প্রকৃতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিলের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শাপলা যে কতগুলো দরিদ্র পরিবারের চুলায় আগুন জ্বালায়, কত শিশুর মুখে খাবার তুলে দেয়, তার হিসাব সাধারণত বাজারের ক্রেতাদের অজানাই থেকে যায়।
প্রকৃতির উপহার, মানুষের জীবিকা
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। দেশের হাওর, বিল, খাল ও জলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে এই জলজ উদ্ভিদ। বিশেষ করে বরিশালের উজিরপুর, ধামুরা, আগৈলঝাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে শাপলার প্রাচুর্য চোখে পড়ে। বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিলে শাপলা জন্মাতে শুরু করে। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শাপলার সবুজ পাতা আর ফুলের সমারোহ।
শাপলা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, খাবার হিসেবেও গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিনের পরিচিত। শাপলার ফুলের নিচের নরম কাণ্ড থেকে শুরু করে নিচের অংশ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া হয়। এর স্বাদ ও সহজলভ্যতার কারণে গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি শহরের বাজারেও এর চাহিদা আছে। শাপলায় খাদ্য-আঁশ থাকায় পুষ্টিগুণের বিবেচনায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রকৃতিতে বিনা চাষে জন্ম নেওয়া এই জলজ উদ্ভিদ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবিকায় ভূমিকা রাখছে। শাপলার এই প্রাচুর্য বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে প্রকৃতির মূল্যবান উপহার। সাধারণ কৃষিপণ্যের মতো শাপলা উৎপাদনের জন্য জমি চাষ, বীজ বপন, সার প্রয়োগ কিংবা নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি থেকে পানি নেমে গেলেও মাটিতে থেকে যায় শাপলা-শালুকের বীজ। পরবর্তীতে পানি জমলে সেই বীজ থেকেই আবার জন্ম নেয় নতুন শাপলা। অর্থাৎ শাপলা জন্মাতে কৃষকের সরাসরি উৎপাদন ব্যয় না থাকলেও এটি সংগ্রহ, আঁটি বাঁধা, পরিবহন ও বাজারজাত করতে প্রয়োজন হয় মানুষের শ্রম ও সময়। আর এই শ্রমের বিনিময়েই প্রাকৃতিক সম্পদটি পরিণত হয় একটি বিক্রয়যোগ্য খাদ্যপণ্যে।
বিল থেকে বাজার: শ্রমের দীর্ঘপথ
শাপলার বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াটি শুরু হয় খুব ভোরে। দিনের আলো তীব্র হওয়ার আগেই সংগ্রহকারীদের বিলে নামতে হয়। কারণ, শাপলা সংগ্রহ করে তা গুছিয়ে বাজারে পৌঁছাতে সময় লাগে। দেরি হলে বাজারের উপযুক্ত সময়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে এ কাজ করেন। পরিবারের পুরুষ সদস্য নৌকা চালিয়ে বিলের ভেতরে যান। নৌকা থেকে বা পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ করে নৌকায় তোলা হয়। এরপর তীরের অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় বসে পরিবারের নারী সদস্যরা শাপলাগুলো গুছিয়ে আঁটি বাঁধেন। অনেক ক্ষেত্রে স্কুলপড়ুয়া শিশুরাও পরিবারের কাজে হাত লাগায়। ফলে শাপলা সংগ্রহ কেবল একজনের কাজ থাকে না; হয়ে ওঠে পরিবারের সম্মিলিত শ্রমের আয়োজন।একেকটি আঁটি তৈরি করতে যে সময় ও পরিশ্রম লাগে, তার প্রতিফলন অবশ্য সব সময় বিক্রয়মূল্যে দেখা যায় না। বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ, নৌকায় বহন, বাছাই, আঁটি বাঁধা এবং বাজারে পৌঁছানো—প্রতিটি ধাপেই শ্রম আছে। কিন্তু পণ্যটির উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় শাপলা সাধারণত কম দামেই বিক্রি হয়।
স্থানীয় বাজারে প্রতিটি আঁটি শাপলা বিক্রি হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকায়। পরে পাইকারি ক্রেতা বা সবজি ব্যবসায়ীরা এসব আঁটি কিনে দূরের বাজারে নিয়ে যান। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় দূরবর্তী বাজারে প্রতি আঁটির দাম বেড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি আঁটিতে থাকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০টি শাপলা। দামের এই ব্যবধানের পেছনে আছে পরিবহন ব্যয়, বাজারের দূরত্ব, সরবরাহের পরিমাণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবসায়িক হিসাব।
শাপলায় চলে সংসার
বরিশালের উজিরপুর ও আশপাশের বিলাঞ্চলে শাপলা মৌসুমে বহু দরিদ্র পরিবারের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। সরেজমিনে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দরিদ্র কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো কোনো না কোনোভাবে শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়। কৃষিকাজে ব্যস্ততা কমে গেলে কিংবা বর্ষায় জমিতে কাজের সুযোগ সীমিত হলে শাপলা হয়ে ওঠে তাদের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
জ্যৈষ্ঠ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত অনেক বিল ও জলাভূমিতে পানি জমে থাকে। তবে ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক—এই তিন মাসে শাপলার প্রাচুর্য বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। এ সময় বিলের পানি যেন দরিদ্র মানুষের জন্য বিকল্প কর্মক্ষেত্রে পরিণত হয়। যেসব কৃষক পরিবার বছরের অন্য সময়ে জমিতে কাজ করে; তারাও শাপলা মৌসুমে এ কাজে যুক্ত হয়। পাশাপাশি ভূমিহীন শ্রমজীবী পরিবার, যাদের নিয়মিত কাজের নিশ্চয়তা নেই, তারাও শাপলা সংগ্রহ করে আয় করার সুযোগ পায়। ফলে এই কার্যক্রম শুধু কৃষকের আয় বাড়ায় না; কাজের সন্ধানে থাকা আরও কিছু মানুষের জন্য সাময়িক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। শাপলা সংগ্রহ করতে জমির মালিকানা লাগে না, বড় বিনিয়োগও প্রয়োজন নেই। শারীরিক শ্রম দেওয়ার সামর্থ থাকলেই অনেকে এ কাজে অংশ নিতে পারেন। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ এ সুযোগ নিচ্ছেন। তবে এ আয় মৌসুমনির্ভর। পানি কমে গেলে কিংবা শাপলার প্রাপ্যতা হ্রাস পেলে এ কাজের সুযোগও সীমিত হয়ে আসে। তাই শাপলা থেকে পাওয়া আয় অনেক পরিবারের জন্য সহায়ক হলেও সারাবছরের জীবিকা নিশ্চিত করা যায় না।
একটি আঁটির পেছনে একটি পরিবার
দৃশ্যটি গত বছরের। মাথায় শাপলার আঁটি নিয়ে হাটের পথে হাঁটছিলেন ৬০ বছর বয়সী হারুন মিয়া। তার গন্তব্য স্থানীয় বাজার। সেখানে শাপলা বিক্রি করে সংসারের প্রয়োজনীয় সদাইপাতি কিনবেন। চার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিনের খাবারের সংস্থান করতে তাকে নির্ভর করতে হয় নিজের শ্রমের ওপর।
কথা প্রসঙ্গে জানালেন, ছেলে ক্রিকেট বল কিনে দেওয়ার বায়না ধরেছে। শাপলা বিক্রির টাকা থেকে সংসারের বাজার করার পাশাপাশি ছেলের জন্য একটি বলও কিনতে চান তিনি।
হারুন মিয়ার কাছে শাপলা কেবল বিক্রির পণ্য নয়; এটি তার পরিবারের খাবার, সন্তানের ছোট্ট আবদার পূরণ এবং পরদিন আবার নতুন করে কাজ শুরু করার সাহস। তার জীবনে বড় কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নেই, নেই সঞ্চয়ের নিশ্চয়তা। আছে ভোরে বিলে নামা, শাপলা সংগ্রহ করা এবং হাটে গিয়ে বিক্রি করার নিরন্তর চেষ্টা।
ছবি তোলার জন্য দাঁড়ালে কিছুক্ষণ থমকে যান তিনি। ছবি তোলা শেষে কথা বলতে গিয়ে তার চোখ ছলছল করে ওঠে। স্থানীয় ভাষায় বললেন, ‘ক্ষেতে কোলার কাম না থাকলে, বিলে শাপলা তুলি। বিলে শাপলা ছিল বইলা চুলার পাহায় পাইলা ওডে, নইলে না খাইয়া থাহোন লাগতো। এই শাপলাই আমাগো সম্বল, শাপলা আমাগো মতো গরিবের প্যাডের ভাত জোগায়।’
তার কথায় লুকিয়ে ছিল বিলাঞ্চলের বহু পরিবারের বাস্তবতা। বাজারে শাপলার আঁটি দেখে ক্রেতা হয়তো এর দরদাম করেন। কিন্তু সেই আঁটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পরিবারের শ্রম, অনিশ্চয়তা এবং খাবার জোগাড়ের সংগ্রামের হিসাব সচরাচর সামনে আসবে না।
শাপলার অর্থনীতি: গ্রাম থেকে শহরের খাবার টেবিলে
শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে পাইকাররা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ শাপলা কেনেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় বাজারের সবজি বিক্রেতারা যেমন এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তেমনি দূরবর্তী শহরে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে পরিবহন ও পাইকারি বিপণনের একটি ধারাও তৈরি হয়েছে।
এই ব্যবস্থায় একদিকে শাপলা সংগ্রহকারী পরিবার আয় করে; অন্যদিকে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা ব্যবসার সুযোগ পান। পরিবহনকর্মীসহ পণ্য সরবরাহের বিভিন্ন ধাপের মানুষেরও কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে শাপলাকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কার্যক্রম একটি পরিবারের আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি স্থানীয় বাজারব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়।
আজ শহরের সবজির ভ্যানে বা বাজারে শাপলা দেখা গেলে তার পেছনের দীর্ঘযাত্রাটি সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। অথচ গ্রামের বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে আঁটি বাঁধা, পাইকারের কাছে বিক্রি, দূরের বাজারে পরিবহন এবং খুচরা বিক্রির মধ্য দিয়ে পণ্যটি ক্রেতার হাতে পৌঁছায়। এই পুরো প্রক্রিয়াই গ্রামীণ অর্থনীতির একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ।
সম্ভাবনা আছে, প্রয়োজন পরিকল্পনার
শাপলা প্রকৃতিতে সহজলভ্য হলেও এর সংগ্রহ ও বিপণনব্যবস্থা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। জোয়ার-ভাটা-বর্ষার পানি, আবহাওয়া, জলাভূমির অবস্থা এবং বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে সংগ্রহের পরিমাণ ওঠানামা করে। পাশাপাশি দ্রুত পচনশীল পণ্য হওয়ায় সময়মতো বাজারে পৌঁছানো জরুরি। পরিবহনব্যবস্থা দুর্বল হলে বা বাজারে চাহিদা কমে গেলে সংগ্রহকারীদের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কিছু উদ্যোগ শাপলানির্ভর পরিবারগুলোর আয় ও কাজের পরিবেশ উন্নত করতে পারে। যেমন- সংগ্রহকারীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যায্যদাম নিশ্চিত করতে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং পরিবহনের খরচ কমানোর ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে শাপলা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উপযোগী স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।
শাপলা যেহেতু জলাভূমিনির্ভর, তাই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিল, খাল ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হলে শাপলার প্রাচুর্য কমে যেতে পারে; তার প্রভাব পড়বে এ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকায়ও।
প্রকৃতির দান, শ্রমের মর্যাদা
শাপলা নিয়ে গ্রামবাংলার মানুষের অনুভূতিও আলাদা। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিলজুড়ে শাপলা ফুটলে অনেকের কাছে তা প্রকৃতির আশীর্বাদ হয়ে আসে। স্থানীয় কেউ কেউ একে ‘স্রষ্টার পক্ষ থেকে উপহার’ বলেও মনে করেন। কারণ এই ফুলের সৌন্দর্যের বাইরেও আছে জীবনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক—শাপলা আছে বলে কাজ আছে, কাজ আছে বলে আয় আছে, আর আয় আছে বলেই অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলে।
তাই তো হারুন মিয়ার মতো মানুষ প্রতিদিন সকালে বিলে নামেন। নৌকায় শাপলা তোলেন, আঁটি বাঁধেন, তারপর হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। হয়তো আবার সংসারের বাজার করবেন, সন্তানের কোনো ছোট্ট আবদার পূরণ করবেন। তার স্বপ্ন বড় নয়, কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের জন্য প্রতিদিনের শ্রমটি তার কাছে অনেক বড়।
বিলের পানিতে ফুটে থাকা শাপলা শুধু জাতীয় ফুল নয়, শুধু সবজি হিসেবেও সীমাবদ্ধ নয়। অনেক দরিদ্র পরিবারের কাছে এটি জীবিকার অবলম্বন, অনিশ্চিত দিনের ভরসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া এক মূল্যবান সহায়তা।
শহরের বাজারে যখন এক আঁটি শাপলা বিক্রি হয়; তখন তার সঙ্গে বিক্রি হয় না শুধু কয়েকটি জলজ কাণ্ড। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের ভোরবেলার পরিশ্রম, বিলের পানিতে বৈঠা চালানো হাত, আঁটি বাঁধা নারীর শ্রম, সন্তানের ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর রাতের খাবার জোগাড়ের নিশ্চয়তা খোঁজার চেষ্টা।
প্রকৃতি শাপলা জন্ম দেয় বিনা চাষে; কিন্তু সেই শাপলাকে জীবিকায় রূপ দিতে মানুষের শ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আর এই শ্রমের মর্যাদা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে বিলের শাপলা শুধু দরিদ্র মানুষের তাৎক্ষণিক বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়েই থাকবে না, গ্রামীণ অর্থনীতির আরও কার্যকর সম্পদ হয়ে উঠবে।
