নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বায়ুদূষণের মাত্রায় বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। একই তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ১৬৫। এ সময় কুয়ালালামপুরের AQI রেকর্ড করা হয় ২০৬।
বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার সকালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত বড় শহরের তালিকায় কুয়ালালামপুর প্রথম, মালয়েশিয়ার কুচিং দ্বিতীয় এবং পাকিস্তানের লাহোর তৃতীয় অবস্থানে ছিল। কুচিংয়ের AQI ছিল ১৯১ এবং লাহোরের ১৭১। অন্যদিকে ১৬৫ AQI নিয়ে ঢাকা ছিল চতুর্থ অবস্থানে।
ঢাকার বায়ু ‘অস্বাস্থ্যকর’
বায়ুর মানের সূচক অনুযায়ী, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত AQI ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত মাত্রাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। সে হিসাবে শুক্রবার সকালে ঢাকার বায়ু অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে ছিল। কুয়ালালামপুরের বায়ুর মান ছিল খুব অস্বাস্থ্যকর।
বায়ুর মানের এই সূচক মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য দূষণের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দেয়। AQI যত বাড়ে, বাতাসে দূষণের মাত্রা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও তত বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে দূষিত বায়ু বেশি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
দূষণের অন্যতম কারণ সূক্ষ্ম কণিকা
বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম কণিকা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে PM2.5 নামে পরিচিত অতি সূক্ষ্ম কণিকা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব কণিকার সংস্পর্শ হৃদ্রোগ, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, সড়কের ধুলিকণা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পোড়ানোর মতো উৎস ভূমিকা রাখতে পারে। নগরীর ব্যস্ত সড়ক, ঘনবসতি ও চলমান উন্নয়নকাজের কারণে অনেক এলাকায় দূষণের মাত্রা বেড়ে যেতে দেখা যায়।
মৌসুমভেদে বদলায় বায়ুর মান
ঢাকার বায়ুর মান সারা বছর একই থাকে না। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। অন্যদিকে বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বাতাসের কিছু দূষণকারী কণিকা ধুয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
তবে বায়ুর মানের র্যাঙ্কিং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিমাপ। আবহাওয়া, বাতাসের গতি, বৃষ্টিপাত ও দূষণের স্থানীয় উৎসের পরিবর্তনের কারণে শহরগুলোর অবস্থান ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলে যেতে পারে। ফলে শুক্রবার সকালের তালিকায় ঢাকার অবস্থান চতুর্থ হলেও পরবর্তী সময়ে তা পরিবর্তিত হতে পারে।
নগরবাসীর সতর্কতা প্রয়োজন
বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকলে নগরবাসীর সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্তদের দূষিত পরিবেশে দীর্ঘসময় অবস্থান এড়িয়ে চলা জরুরি। দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে খোলা স্থানে ভারী শারীরিক পরিশ্রম কমানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু ব্যক্তিগত সতর্কতা যথেষ্ট নয়; দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে ধুলা কমানো, সড়ক পরিষ্কার রাখা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন পর্যবেক্ষণের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে শুক্রবার সকালের আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত বড় শহরের তালিকায় কুয়ালালামপুর শীর্ষে থাকলেও ঢাকাও ছিল শীর্ষ পাঁচের মধ্যে। এতে রাজধানীর বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে বায়ুর মানের এই র্যাঙ্কিং নির্দিষ্ট সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে। তাই দূষণের প্রকৃত অবস্থা জানতে নিয়মিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
